ব্যবসায় পণ্য বিক্রিতে লটারি ও আকর্ষণীয় অফার: শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি

বর্তমানে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের বিক্রি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় অফার দিয়ে থাকে। যেমন, নির্দিষ্ট পণ্য ক্রয়কারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে একজন বা একাধিক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা নগদ অর্থ উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব অফার আজকাল ব্যবসায়িক প্রচারণার একটি সাধারণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

শরীয়তের দৃষ্টিতে, ব্যবসার সঙ্গে এ ধরনের প্রচারণামূলক অফার মূলগতভাবে বৈধ। তবে এর বৈধতা দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের ওপর নির্ভরশীল।

প্রথম শর্ত:
অফারের ব্যয়ভার গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ, অফারের অজুহাতে পণ্যের ন্যায্য বাজারমূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না। যদি অফারের খরচ যোগ করে পণ্য স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়, তাহলে এটি গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে। কারণ, বাস্তবে গ্রাহকই ওই পুরস্কারের ব্যয় বহন করছেন।

দ্বিতীয় শর্ত:
গ্রাহকের মূল উদ্দেশ্য হতে হবে পণ্য ক্রয়, পুরস্কার লাভ নয়। যদি কেউ প্রকৃত প্রয়োজনের কারণে পণ্য ক্রয় করেন এবং অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে অফারে অন্তর্ভুক্ত হন, তাহলে এতে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি তার প্রধান উদ্দেশ্যই হয় লটারিতে অংশ নেওয়া বা পুরস্কার পাওয়ার আশায় পণ্য কেনা, আর পণ্যটি কেবল সেই উদ্দেশ্য পূরণের একটি মাধ্যম হয়ে যায়, তাহলে বিষয়টি জুয়ার বৈশিষ্ট্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। যদিও ফিকহের দৃষ্টিতে সব ক্ষেত্রে এটিকে সরাসরি জুয়া বলা নাও হতে পারে, তবুও এটি জুয়াসদৃশ (شبيه بالقمار) এবং একজন মুসলিমের জন্য এ ধরনের মানসিকতা ও লেনদেন থেকে বিরত থাকাই উচিত।

সারকথা:
ব্যবসায়িক অফার তখনই শরীয়তসম্মত হবে, যখন (১) অফারের কারণে পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হবে না এবং (২) ক্রেতার উদ্দেশ্য হবে পণ্য ক্রয়, কেবল পুরস্কার লাভ নয়। এই দুটি শর্ত বজায় থাকলে এ ধরনের অফার বৈধ। অন্যথায় তা প্রতারণা বা জুয়াসদৃশ লেনদেনের পর্যায়ে পড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: ফিকহুল বুয়ু ২য় খন্ড, পৃ: ৮১১।

লেখক
মুফতি উবাইদুর রহমান হাম্মাদ
ফাউন্ডার: Islamic Centre for Training & Advisory-ICTA
সিনিয়র ডেপুটি মুফতি: জামি’আ দারুল উলূম মতিঝিল – Jamia Darul Uloom Motijheel

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *